বিপ্লব রায়
উত্তর ২৪ পরগণার শ্যামনগরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে প্রকাশ্য উত্তেজনা নেই, কিন্তু রাজনীতির স্পন্দন স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। বড় সভা, মিছিল বা সংঘর্ষের অনুপস্থিতি অনেকের কাছে রাজনৈতিক স্থবিরতা মনে হলেও, বাস্তবে এটি নির্বাচনী রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী অধ্যায়—যেখানে দলগুলি নিজেদের অবস্থান নতুন করে পরিমাপ করছে।
শ্যামনগর এলাকায় শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এখনও সাংগঠনিকভাবে প্রভাবশালী শক্তি। প্রশাসনিক উপস্থিতি, দীর্ঘদিনের সংগঠন এবং কর্মীভিত্তিক নেটওয়ার্কের জোরে তারা এলাকায় স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্য কর্মসূচির ঘাটতি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দলটি এখন আক্রমণাত্মক রাজনীতির বদলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে ভোটার মুড বোঝার কৌশলেই হাঁটছে।
এই নীরবতার মধ্যেই শ্যামনগরের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসছে ভোটার তালিকা সংশোধন, সরকারি প্রকল্পের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রভাব। বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও চায়ের দোকানের কথোপকথনে দেখা যাচ্ছে—মানুষ এখন বড় স্লোগানের বদলে দৈনন্দিন প্রশাসনিক বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এই প্রবণতা রাজনৈতিক দলগুলির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
বিরোধী শিবিরের ক্ষেত্রে শ্যামনগরে এখনও কোনও দৃশ্যমান রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়নি। সংগঠনগত দুর্বলতা এবং মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তার অভাব তাদের উপস্থিতিকে সীমিত করে রেখেছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি স্থায়ী নয়—কারণ ভোট ঘনিয়ে এলে স্থানীয় ইস্যু ও প্রশাসনিক অসন্তোষই বিরোধী রাজনীতির প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে শ্যামনগরের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা এক ধরনের ‘পূর্বপ্রস্তুতির রাজনীতি’। এখানে রাজনীতি থেমে নেই, বরং প্রকাশ্য শব্দহীন কৌশলের মাধ্যমে ভবিষ্যতের লড়াইয়ের জমি তৈরি হচ্ছে। এই নীরব পর্যায় শেষ হলে কোন শক্তি কতটা সংগঠিত হয়ে মাঠে নামবে—সেই উত্তরই নির্ধারণ করবে শ্যামনগরের আগামী রাজনৈতিক অভিমুখ।


